
নিজস্ব প্রতিবেদক, নারায়ণগঞ্জ:
নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে কুখ্যাত ডাকাত সর্দারসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে রামদা, চাপাতি ও ছুরিসহ বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র এবং অপরাধমূলক নানা সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—কুখ্যাত ডাকাত চক্রের মূলহোতা মো. খোকন ওরফে চোক্কা (৩৬), মো. পারভেজ (২৮) এবং মো. মঞ্জুর (৫০)। তাদের সবার বাড়ি বন্দর থানার বিভিন্ন এলাকায়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. হাবিবুর রহমান, পিপিএম-এর দিকনির্দেশনা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস্) তারেক আল মেহেদী এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ‘খ’ সার্কেল দীপংকর ঘোষের তত্ত্বাবধানে এই অভিযান পরিচালিত হয়। গত ২৩ অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দে রাত আনুমানিক ৮টা ১০ মিনিটে বন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জামাল উদ্দিনের প্রত্যক্ষ নেতৃত্বে পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মিজানুর রহমান এবং বন্দর থানার একটি চৌকস টিম এই অভিযান পরিচালনা করে।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বন্দর থানাধীন সোনাচড়া ও রামনগর এলাকার বায়তুল মামুর জামে মসজিদের পেছনের তিন রাস্তার মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা স্বীকার করেছে যে, তারা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ডাকাতিসহ বিভিন্ন গুরুতর অপরাধ সংঘটিত করার উদ্দেশ্যে নিজেদের হেফাজতে এসব দেশীয় অস্ত্র জমিয়ে রেখেছিল।
উদ্ধারকৃত আলামত:
অভিযানকালে তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়—
১টি লোহার তৈরি কাঠের বাটযুক্ত রামদা
১টি প্লাস্টিকের বাটযুক্ত ছুরি
১টি লোহার তৈরি চাপাতি
১টি কালো স্কচটেপ দ্বারা পেঁচানো ছুরি
২টি হলুদ রঙের প্লাস্টিকের বাটযুক্ত ছুরি
১টি লাল রঙের প্লাস্টিকের কভারযুক্ত তার কাটার প্লাস
অপরাধের রেকর্ড:
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে এলাকায় বহু অপরাধের রেকর্ড রয়েছে।
প্রধান অভিযুক্ত খোকন ওরফে চোক্কা (৩৬)-এর বিরুদ্ধে একাধিক ডাকাতি মামলাসহ মোট ১১টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে এবং তার নামে ৫টি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে।
মো. পারভেজ (২৮)-এর বিরুদ্ধে ১টি ডাকাতি প্রস্তুতির মামলা ও ১টি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে।
মো. মঞ্জুর (৫০)-এর বিরুদ্ধে ১টি ডাকাতি প্রস্তুতির মামলাসহ মোট ৩টি মামলা চলমান রয়েছে।
এ ঘটনায় বন্দর থানায় গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে ডাকাতির প্রস্তুতির অপরাধে একটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। বন্দর থানার পুলিশ জানিয়েছে, এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং অপরাধীদের গ্রেফতারে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
Leave a Reply