
বাংলাদেশ আমার অহংকার’ এই স্লোগান নিয়ে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, জঙ্গি দমন, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং চাঞ্চল্যকর অপরাধীদের গ্রেফতারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। গোয়েন্দা নজরদারি ও ধারাবাহিক আভিযানিক কার্যক্রমের মাধ্যমে এরই মধ্যে সংস্থাটি জনগণের আস্থা অর্জন করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় টাঙ্গাইল ও মুন্সিগঞ্জে যৌথ অভিযান চালিয়ে ৩টি বিদেশি পিস্তল, ১১ রাউন্ড গুলি, ২টি ম্যাগাজিন এবং অস্ত্র বিক্রির নগদ ৪১ লাখ ১৯ হাজার ৫০০ টাকাসহ ৩ জন শীর্ষ অস্ত্র ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
টাঙ্গাইলে বাসে হারমনিয়ামের ভেতর অস্ত্র লুকানোর সময় গ্রেফতার ১
এসআরবি-১১ এর সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে গত ১৪ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ রাত ২:১০ মিনিটে এসআরবি-১৪ এর একটি আভিযানিক দল টাঙ্গাইলের যমুনা সেতু পূর্ব গোলচত্বর এলাকার চেকপোস্টে “রিয়াজ পরিবহন” নামক একটি বাসে অভিযান চালায়। বাসটিতে তল্লাশি চালিয়ে একটি হারমনিয়ামের ভেতর অত্যন্ত নিখুঁতভাবে লুকানো অবস্থায় ২টি বিদেশি পিস্তল ও ৭ রাউন্ড গুলিসহ মো. বারেক ব্যাপারী (৪৯) নামের এক অস্ত্র বহনকারীকে গ্রেফতার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত বারেক জানায় যে, এই অস্ত্র ও গুলির চালানটি সে মুন্সিগঞ্জের সুজন বেপারীর কাছে নিয়ে যাচ্ছিল। কুষ্টিয়া থেকে ক্রয় করা এই দুটি পিস্তল সুজনের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কথা ছিল তার।
মুন্সিগঞ্জে মূল হোতার বাসায় অভিযান: উদ্ধার ১ পিস্তল ও সাড়ে ৪১ লাখ টাকা
টাঙ্গাইল থেকে পাওয়া তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য এসআরবি-১১, সদর কোম্পানির একটি আভিযানিক দল ১৪ অক্টোবর সকাল ৭:০০টায় মুন্সিগঞ্জ সদর থানাধীন শিলই এলাকায় সুজন বেপারীর বাসায় অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানে সুজন বেপারী (৩৮) এবং তার বড় ভাই মনির হোসেনকে (৪৫)—উভয়ের পিতা: কাসেম ব্যাপারী, সাং- শিলই, মুন্সিগঞ্জ সদর—গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে তাদের বাসা তল্লাশি করে ১টি বিদেশি পিস্তল, ৪ রাউন্ড গুলি, ২টি ম্যাগাজিন এবং অবৈধ অস্ত্র বিক্রির মাধ্যমে অর্জিত ৪১ লাখ ১৯ হাজার ৫০০ টাকা উদ্ধার করা হয়।
আইনি ব্যবস্থা ও ভবিষ্যৎ প্রতিজ্ঞ
গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে টাঙ্গাইলের যমুনা সেতু পূর্ব থানায় এবং মুন্সিগঞ্জ সদর থানায় নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
অবৈধ অস্ত্রের বিস্তার রোধ, সন্ত্রাসবাদ দমন এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং সন্ত্রাস ও অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনের লক্ষ্যে অপরাধীদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
Leave a Reply