
শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপন উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জ জেলার বিভিন্ন পূজা মণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশ পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) জনাব মোঃ আলী হোসেন ফকির, বিপিএম। পরিদর্শন শেষে তিনি জেলার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সাথে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণ করেন।
গত ১৯ অক্টোবর (সোমবার) আইজিপি মহোদয় নারায়ণগঞ্জ জেলার সদর থানাধীন ঐতিহ্যবাহী শ্রী রামকৃষ্ণ মিশন পূজা মণ্ডপ এবং আমলাপাড়া সার্বজনীন পূজা মণ্ডপ পরিদর্শন করেন।
সার্বিক নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি
মণ্ডপ পরিদর্শনকালে দুর্গাপূজার সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যালোচনা করে আইজিপি বলেন, “দুর্গাপূজার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও সহযোগিতা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে সুসমন্বয়ের ফলে উৎসবমুখর ও আনন্দঘন পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপিত হচ্ছে।”
অপরাধ দমনে কঠোর হুঁশিয়ারি
অপরাধ দমনে পুলিশের দৃঢ় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে আইজিপি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “মাদক, চাঁদাবাজ ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ পুলিশ ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে। চাঁদাবাজ যে দল বা পরিচয়েরই হোক না কেন, তাকে কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।”
এ সময় আইজিপির সাথে উপস্থিত ছিলেন:
ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার: জনাব মোঃ মনিরুজ্জামান মিঞা
ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি: জনাব মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান
নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক: জনাব মোঃ রায়হান কবির
নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার: জনাব মোঃ হাবিবুর রহমান, পিপিএম
জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি: শ্রী শংকর কুমার দে
পূজা উদযাপন কমিটির উপদেষ্টা: শ্রী প্রবীর কুমার মিত্রসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
পুলিশ লাইন্সে মতবিনিময় সভা
মণ্ডপ পরিদর্শন শেষে আইজিপি নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ লাইন্সের মাল্টিপারপাস কক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটের প্রধান, সরকারি কর্মকর্তা, গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধি ও স্থানীয় নেতাদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় যোগ দেন।
সভায় তিনি দেশজুড়ে অপরাধ দমনে পুলিশের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন। আইজিপি জানান, “বাংলাদেশ পুলিশ মাদক, সন্ত্রাস, কিশোর গ্যাং ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ইতোমধ্যেই সারাদেশে বিপুল সংখ্যক মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীকে গ্রেফতার করে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।”
কিশোর গ্যাং দমনে নতুন উদ্যোগ ও সাইবার ইউনিট
আইজিপি তাঁর বক্তব্যে কিশোর গ্যাং ও সাইবার অপরাধ দমনে সাম্প্রতিক পদক্ষেপসমূহ তুলে ধরে বলেন:
১. উপজেলা পর্যায়ে কমিটি: সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, উপজেলা পর্যায়ে কিশোর গ্যাং দমনে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে (ইউএনও) সভাপতি এবং থানার অফিসার ইনচার্জকে (ওসি) সদস্য সচিব করে বিশেষ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
২. সাইবার অপরাধ দমন: অনলাইন প্রতারণা, অনলাইন জুয়া এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় হয়রানি বন্ধে পুলিশের বিশেষ সাইবার ইউনিট কাজ করে যাচ্ছে।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ
উক্ত মতবিনিময় সভায় ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার, ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক, নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান, জেলা পরিষদের প্রশাসক, জেলা প্রশাসক, নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার, সিআইডি ও নৌপুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি, ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের পুলিশ সুপার, ৬২ বিজিবির সিও, এনএসআই পরিচালক, সিভিল সার্জন, ডিজিএফআই-এর সহকারী পরিচালক, আনসার কমান্ড্যান্ট, জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, সহকারী পুলিশ সুপার এবং বিভিন্ন থানার অফিসার ইনচার্জবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
Leave a Reply