মহম্মদপুর উপজেলার কৃষকেরা ধান কাটা নিয়ে ব্যাস্ত সময় পার করছেন

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : রবিবার, নভেম্বর ১৪, ২০২১
  • 237 বার পঠিত

মোঃ তরিকুল ইসলাম,
মাগুরা প্রতিনিধি,

মহম্মদপুর উপজেলায় শুরু হয়েছে আগাম জাতের রোপা আমন ধান কাটার উৎসব। সোনার ফসল ঘরে তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন উপজেলার কৃষকরা। সোনালি ধান হাসি ফুটিয়েছে তাদের মুখে।

 

 

 

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উচ্চ ফলনশীল জাতের ধান চাষে কৃষকরা আগ্রহী হচ্ছে। এর ফলে একই জমিতে তিনটি ফসল আবাদ করা সম্ভব হচ্ছে। এতে আর্থিকভাবে লাভবান হবে কৃষকরা।

 

 

করোনার এই সময়ে দেশের মানুষকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। আক্রান্ত হয়েছে কৃষক-কৃষানিরা। এর মধ্যেও মহম্মদপুর উপজেলার খালিয়া, বিনোদপুর,ঘুল্লিয়া সহ সব গ্রামে বিভিন্ন জমিতে এখন শোভা পাচ্ছে আগাম জাতের রোপা আমন ধান। সোনালি ধানের ঘ্রাণে ভরে আছে মাঠ।

 

 

সরেজমিনে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, মাঠজুড়ে সোনালি রোপা আমন ধানের ছড়া। এরই মধ্যে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ধান কাটা শুরু হয়েছে। আর কদিন পর পুরোদমে ধান কাটা শুরু হবে। কৃষক-কৃষানিদেরও ব্যস্ততা বেড়েছে। আর কিছুদিনের মধ্যেই ধান মাড়াই শেষ হলে গোলায় তুলবেন কৃষক।

 

 

 

 

 

এদিকে নবান্ন উৎসব পালনের জন্য গ্রাম বাংলায় কৃষকের ঘরে ঘরে উৎসবের প্রস্তুতি চলছে। এ সময় মেয়ে জামাইসহ আত্মীয়স্বজনদের বাড়িতে আমন্ত্রণ করার পাশাপাশি কৃষকের বাড়িতে নতুন চালের পোলাও, গরম গরম ভাঁপা পিঠা, রসেভরা দুধচিতই, দুধপুলি, নোকশি পিঠা, মুঠি পিঠা, খেজুর রসের খির ও পায়েসসহ রকমারি লোভনীয় খাবারের ধুম পড়ে যায়। আর সন্ধ্যায় শুরু হয় বাড়ির উঠানে জারি-সারি, ভাটিয়ালী, পুঁথি, পালা গান ও কেচ্ছা-কাহিনির সুরে মেতে ওঠে নবান্নের উৎসব।

 

 

 

 

মহম্মদপুর উপজেলার খালিয়া গ্রামের কৃষক কবির মোল্লা আমাদে জানান, এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় রোপ আমন ধানের ফলন ভালো হয়েছে। তাছাড়া ক্ষমতাশীন সরকারকে ধন্যবাদ দিয়ে বলেন, ধানের দাম বেশি করার ফলে কৃষক লাভবান হচ্ছেন।

ঘুল্লিয়া গ্রামের কৃষক জাহিদ বলেন, ‘আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার রোপ আমন ধানের ফলন ভালো হয়েছে। পোকার আক্রমণে কিছুটা ক্ষতি হলেও এত বেশি ফলন হবে সেটা কল্পনাও করতে পারিনি। পাকা ধান কাটা শুরু করতে খুব ভালো লাগছে।’
মহম্মদপুর উপজেলার কৃষি অফিসের তথ্য মতে চলতি মৌসুমে উপজেলার ৮ ইউনিয়নে ১২ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন ও বোনা আমন জাতের ধান চাষের লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছিল। আবাদ হয়েছে ১২ হাজার ২শ ৫০ হেক্টর জমিতে। উপজেলার গড়ে হিসাব অনুযায়ী খাদ্য চাহিদা মিটিয়ে ১৬ হাজার ৫শ ৫০ মেট্রিক টন অতিরিক্ত থাকবে বলে ধারনা করা হচ্ছে।

 

 

 

 

বিনোদপুর ইউনিয়নের ঘুল্লিয়া ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মৃণাল কান্তি দাস বলেন, ‘জমি চাষ দেওয়া থেকে শুরু করে জমিতে সার প্রয়োগ পর্যন্ত কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে কৃষক যেন ধানের বেশি ফলন পান।’

মহম্মদপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আব্দুস সোবহান বলেন, ‘চলতি মৌসুমে উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি ধানের চাষ হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া ও পোকার আক্রমণ কম হওয়ায় গত বছরের তুলনায় এবারও ফলন বেশ ভালো। গত বছর কৃষক ধানের ন্যায্যমূল্য পাওয়ায় এবার বেশি জমিতে ধানের আবাদ করেছেন।’

 

 

 

 

নিউজটি সোশ্যাল মিডিয়াতে বেশি বেশি করে শেয়ার করুন।

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর